বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঢাবি সাংস্কৃতিক সংসদের বর্ষবরণ উৎসব

ঢাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় 'বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। এই অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার

2026-04-21T23:50:53+00:00
2026-04-21T23:50:53+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঢাবি সাংস্কৃতিক সংসদের বর্ষবরণ উৎসব
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত 'বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। ছবি : সময়ের আলো
বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় 'বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। এই অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকা। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল দশটা থেকে শুরু হয় 'গ্ৰামীণ মেলা'। পরবর্তীতে বেলা দুইটার দিকে উদ্বোধনী শুভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। 

দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে লোকজ মেলা, ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আয়োজন,ফানুস উৎসব সহ নানা আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ আবহে সাজানো মেলায় দেখা যায় বৈশাখী পোশাক, অলংকার, হস্তশিল্প ও দেশীয় খাবারের নানা স্টল। পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ ও পুঁথিপাঠের মতো বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নগরজীবনে ফিরিয়ে আনে গ্রামবাংলার চেনা আবহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘কালচারাল প্র্যাকটিসগুলো আপনারা কখনোই হারিয়ে যেতে দেবেন না। সব কালচারের সকল অংশই আপনারা প্র্যাকটিস করবেন। কালচার আপনারা আপনাদের ভেতরে জীবিত রাখবেন, যেন আমাদের সমাজের ভেতরে সেটা শক্তভাবে জীবিত থাকে।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্ষবরণ উৎসব, নতুন বছরকে আপনারা বরণ করে নিচ্ছেন, আমাদের কালচারাল হেরিটেজ, সেটার উদযাপন করছেন। এটা অত্যন্ত আনন্দের। কারণ মাঝখানে কিছুটা সময় আমরা দেখেছি অনেকেই  অনেক রাজনৈতিক জায়গা থেকে আমাদের কালচারের হেরিটেজের বিরোধিতা করে অনেক ধরনের আলোচনা বা  কর্মকান্ডে জড়িত হয়েছে। এই জিনিসগুলো আমরা দেখতে চাই না। আমরা উন্মুক্ত কালচারাল চর্চা দেখতে চাই। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেটা জ্ঞানের জায়গা, ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার প্রথম বীজ যেখান থেকে তৈরি হয়েছে, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সঠিকভাবে সাংস্কৃতিক চর্চা দেখতে চাই।

সঠিকভাবে সাংস্কৃতিক চর্চা মানে হচ্ছে  উন্মুক্তভাবে সাংস্কৃতিক চর্চা মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে যেইটা পছন্দ করে, সেইটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আর আমাদের সংস্কৃতি কিন্তু অনেক বড়। যেকোনো একটা জিনিস ধরে আপনি বলতে পারবেন না, এইটাই আমাদের সংস্কৃতি। একটা নাচ ধরে বলতে পারবেন না ,এইটাই, এটার বাইরে কিছু না; একটা গান ধরে বলতে পারবেন না, এইটাই, এটার বাইরে কিছু না; আবার একটা কবিতা বা একটা কিছু ধরে বলতে পারবেন না, এইটাই, এটার বাইরে কিছু না। সেই জায়গা থেকে যে উন্মুক্ত চিন্তার জায়গাটা, যে সব ধরনের কালচারাল প্র্যাকটিসেস যেন আমরা উন্মুক্তভাবে করতে পারি, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, আমার একটা জিনিস পছন্দ না ঠিক আছে, তাহলে সেটা আমি প্র্যাকটিস করব না। কিন্তু অন্য কারোর সেটার প্র্যাকটিসের স্বাধীনতায় আমি বাধা দিতে পারি না। সেটা গান, নাচ যেটাই হোক না কেন। 

ববি হাজ্জাজ বলেন, যে রবীন্দ্রপ্রেমী, তাকে রবীন্দ্রপ্রেমী থাকতে দেন। যে নজরুলপ্রেমী, তাকে নজরুলপ্রেমী থাকতে দেন। যে বাউলপ্রেমী, বাউলপ্রেমী থাকতে দেন। যে হামদ-নাতপ্রেমী, সে হামদ-নাতপ্রেমী থাকতে দেন। প্রত্যেকটা প্র্যাকটিস যেন অব্যাহত থাকে। কোনোটাই যেন থেমে যাওয়ার বা থামিয়ে দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা সফল না হতে পারে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ। বাংলাদেশের যত আনন্দ-উৎসব রয়েছে, তার মধ্যে বাংলা নববর্ষ অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় এবং এটি ঐতিহ্যগতভাবেই কয়েকশ বছর ধরে চলে আসছে।  

তিনি বলেন, একটা দেশের সংস্কৃতি যদি উন্নত হয়, সেই জাতি নিজেদের ভেতরেও সংস্কৃতি চর্চাটা অনেক ভালোভাবে করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বের দরবারে নিজেদের উপস্থাপন করতেও সক্ষম হয়। আমরা যখন দেখি বাংলাদেশের সংস্কৃতি কিছুটা অন্যের অনুকরণ করতে হয়, সেটা আমাদের খুব আনন্দ দেয় না। কারণ আমরা আসলে অত্যন্ত স্বাধীন একটি সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি এই যে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের ভেতরে সাংস্কৃতিক সংসদে যারা সময় দিচ্ছ, তাদের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। কারণ আমি মনে করি, সংস্কৃতি আমাদের মনের খোরাক যোগায়। যেমন খেলাধুলা শরীরকে সতেজ রাখে, তেমনি সংস্কৃতি মনকে সতেজ রাখে। লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশের প্রয়োজন, মননের প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই তোমরা লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বা অন্যান্য অঙ্গনে যে সকল সুবিধা আছে, সেগুলো কাজে লাগাও। কারণ আমাদের অবারিত সুযোগ আছে। নেতৃত্ব, নিজের আনন্দ, মনন ও মেধার বিকাশের জন্য এই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরণ থাকা দরকার। 

এসময় অতিথিদের কাছ থেকে  গুণীজন সম্মাননা গ্রহণ করেন নৃত্যশিল্পী শর্মিলা ব্যানার্জি ও সংগীতশিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর ড. রাশেদা রওনক খান। মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ঢাবি  সাংস্কৃতিক সংসদ 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: