যুদ্ধবিরতির শেষ কয়েক ঘণ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ফের যুদ্ধংদেহী হয়ে উঠেছে। ইরানে হামলার জন্য মুখিয়ে আছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল দেখানোর দেখাতে প্রস্তুত তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে ইরান। এমন অবস্থায় শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি ঘিরে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয় পক্ষই পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে সবুজ সংকেত দিলেও শেষ মুহূর্তে এসে শুরু হয়েছে এক ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন পাকিস্তানের মাটিতে আগে পা রাখবে কারা? যুক্তরাষ্ট্র না ইরান?
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, বুধবার উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উভয় দেশের অগ্রগামী দল (সাপোর্ট স্টাফ) এরই মধ্যে ইসলামাবাদে এসে পৌঁছেছেন। তবে দুই দেশের মূল প্রতিনিধি দলের আগমন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ওয়াশিংটন ত্যাগের বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত চরম গোপনীয়তা বজায় রাখছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত কোনো ধরনের কূটনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে চাইছে। যদি মার্কিন প্রতিনিধি দল আগে ইসলামাবাদে পৌঁছে যায় এবং ইরান শেষ মুহূর্তে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় লজ্জার কারণ হবে। অন্যদিকে তেহরান তাদের অবস্থানে অনড়। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না। এই পূর্বশর্তই মূলত সফরের মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত, ইরানের উদ্দেশে ট্রাম্প : ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হলে পুনরায় সামরিক হামলা শুরুর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে ‘যুদ্ধংদেহী’ অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো সময় অভিযানে নামতে প্রস্তুত।
সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়টিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ মজুদ করার কাজে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, আমাদের ভান্ডার এখন পরিপূর্ণ। আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে। আমরা এই সময়টাকে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করেছি, হয়তো ওরাও (ইরান) কিছুটা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও স্পষ্ট করে বলেন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী এখন (অভিযানে যেতে) মুখিয়ে আছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ইরানের ‘নতুন কার্ড’ প্রস্তুত : ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘোষিত একটি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের দিকে যাচ্ছে। তবে এখনও নতুন করে শান্তি আলোচনার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ‘যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন তাস দেখানোর প্রস্তুতি’ নিচ্ছে এবং ‘হুমকির ছায়ায় কোনো আলোচনা মেনে নেবে না’।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কোনো চুক্তি করতে তিনি চাপের মুখে নেই। একই সঙ্গে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পাকিস্তান সফর করবেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন, বুধবার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে এমন সম্ভাবনা ‘খুবই কম’।
উপসাগরীয় অঞ্চলে, রোববার ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে একে অন্যকে দোষারোপ করছে দুপক্ষই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইরান শিগগিরই আলোচনায় বসবে প্রত্যাশা ট্রাম্পের : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান খুব শিগগিরই তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করার পাশাপাশি ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা আটজন নারীকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানে আটজন নারীকে ফাঁসি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমন একটি খবরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প লিখেন, ইরানের নেতাদের বলছি, যারা শিগগিরই আমার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন; ‘আমি এই নারীদের মুক্তি দিলে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব’।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি নিশ্চিত যে তারা (মার্কিন প্রতিনিধিরা) আপনাদের এই মহানুভবতাকে সম্মান জানাবে। দয়া করে তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না। এটি আমাদের আলোচনার একটি দারুণ সূচনা হতে পারে।
আরেক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, তার সামরিক বাহিনী ‘রক্তপিপাসু’ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘পুরোপুরি গুঁড়িয়ে’ দিয়েছে। ট্রাম্প পোস্টে বলেন, তেহরানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ মার্কিন বাহিনী এমনভাবে ধ্বংস করেছে যে, ইরান এখন আর সেগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম নয়। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমেরও কড়া সমালোচনা করেন। ইরান ইস্যুতে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের সমালোচনা করায় তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত ফেক নিউজ মিডিয়া’ বলে আখ্যা দেন।
মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরানি জলসীমায় তেলবাহী জাহাজ : মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমাগত হুমকি ও বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা উপেক্ষা করে গত রাতে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রচারিত ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানায়, মার্কিন নৌ টাস্কফোর্সের একাধিক সতর্কবার্তা ও হুমকি সত্ত্বেও ইরানি তেলবাহী জাহাজ ‘সিলি সিটি’ ইরানি নৌবাহিনীর সরাসরি সহায়তায় আরব সাগর পাড়ি দিয়ে গত রাতে দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাহাজটি বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি দক্ষিণ সমুদ্রবন্দরের নোঙরে গত কয়েক ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জাহাজটি কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন না হয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরান আলোচনায় না বসলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসবে। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, এর ব্যতিক্রম হলে দেশটিকে চরম মূল্য দিতে হবে। ‘দ্য জন ফ্রেডরিকস শো’তে এক ফোন কলে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই তারা (ইরান) আলোচনা করতে যাচ্ছে। আর যদি তারা তা না করে, তবে তারা এমন সমস্যার মুখে পড়বে যা আগে কখনো দেখেনি।
সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আশা করি তারা একটি ন্যায্য চুক্তি করবে এবং তাদের দেশকে আবার পুনর্গঠন করবে। কিন্তু যখন তারা তা করবে, তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার কোনো পথ বা কোনো সুযোগই তাদের থাকবে না। আমরা তা হতে দিতে পারি না।
এটি বিশ্বের ধ্বংসের কারণ হতে পারে এবং আমরা তা হতে দেব না। ইরানে পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাকে বলতেই হচ্ছে, ইরানের বিষয়ে আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। আমাদের এটি করতে হয়েছে।
চুক্তি না হলে ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ উঠবে না : যুদ্ধ থামাতে নতুন করে শান্তি বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলবে না আমেরিকা। এক সপ্তাহ ধরে চলা এই অবরোধ ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে’ বলে নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দাবি করেছেন ট্রাম্প। চলতি সংঘাতে আমেরিকা ‘বিরাট ব্যবধানে’ জয়ী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে তেহরান যুদ্ধক্ষেত্রে ‘নতুন কৌশল’ দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হুমকির মুখে কোনো ধরনের আলোচনা মেনে নেবে না। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি চাপের মুখে নেই। একই সময়ে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার আলোচনার জন্য পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন।
এদিকে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দের পর হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটন ও তেহরান পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। অন্যদিকে একজন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইরানের কোনো প্রতিনিধি এখনও পাকিস্তানে যায়নি : ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধি দল এখনও পাকিস্তানে রওনা হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত খবর নাকচ করে দিয়ে রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, এখন পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়নি; তা প্রধান বা কোনো সহযোগী প্রতিনিধি দল হোক কিংবা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক।
জব্দ ইরানি জাহাজে সামরিক সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনা : মার্কিন বাহিনী গত রোববার ওমান উপসাগরে যে ‘তুস্কা’ নামক ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজটি জব্দ করেছে, তাতে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য পণ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
ছোট এই কন্টেইনার জাহাজটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান শিপিং লাইনস গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত, যার ওপর আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওমান উপসাগরে ইরানের চাবাহার বন্দরের উপকূলে গত রোববার জাহাজটিতে আরোহন করে এটি নিয়ন্ত্রণে নেয় মার্কিন বাহিনী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী এশিয়া থেকে যাত্রা করা এই জাহাজটিতে ‘দ্বৈত ব্যবহারের’ উপযোগী পণ্য থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, এই জাহাজটি আগেও ‘দ্বৈত ব্যবহারের’ জন্য বিবেচিত পণ্য পরিবহন করেছিল।
যদিও সূত্রগুলো এসব পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি, তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ধাতু, পাইপ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশসহ এমন কিছু পণ্যের তালিকা দিয়েছে, যা একই সঙ্গে শিল্প ও সামরিক উভয় কাজেই ব্যবহৃত হতে পারে এবং যা তারা জব্দ করতে পারে।
জব্দ জাহাজ ও ক্রুদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইরানি কার্গো জাহাজ ‘তুস্কা’ জব্দের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জাহাজটিসহ এর নাবিক, ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌঅবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটিতে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করে মার্কিন নৌবাহিনী।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার থেকে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে এবং হেলিকপ্টার থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেরিন সেনারা দড়ি বেয়ে জাহাজের ডেকে নামছেন।
এর আগে এই জাহাজ জব্দের ঘটনায় কড়া প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল ইরান। মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এবং ‘অপরাধমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, এটি পরিষ্কার যে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির সব দায়ভার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
জব্দ করা ওই জাহাজে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন এবং তারা সবাই ইরানি কি না, সে সম্পর্কে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্রুদের জাতীয়তা এবং জাহাজের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিএনএনের পক্ষ থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
ইরানের ইউরেনিয়াম উদ্ধার হবে দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া : গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর সেখান থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা একটি ‘দীর্ঘ’ এবং ‘কঠিন’ প্রক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, অপারেশন মিডনাইট হ্যামার ছিল ইরানের ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সাইটগুলোর সম্পূর্ণ বিনাশ। তাই এখন সেখান থেকে সেগুলো খুঁড়ে বের করা একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া হবে। ট্রাম্প প্রায়শই ইরানের পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের মজুদকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই ইরান এই ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে।
ইরান আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পাকিস্তান যাচ্ছেন ভ্যান্স : যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানে একটি সম্ভাব্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্যান্স এমন এক সময়ে পাকিস্তানে পৌঁছাবেন যখন চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক দ্বারপ্রান্তে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে হুমকি দিয়েছেন যে, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে তিনি ইরানের বিভিন্ন সেতু এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে বোমা হামলা শুরু করবেন।