ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদরা চাইছেন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা যেন ব্যর্থ হয়। এর ফলে তারা কেবল ইরানেই নয়, লেবাননেও তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন।
মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আলজাজিরার নিদা ইব্রাহিম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এই যুদ্ধ বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। ইসরাইলি সরকার একে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। তেল আবিব শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তারা ইরান ও লেবাননে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
ইসরাইলি সরকারের মতে, ইরান ও লেবানন এই দুটি যুদ্ধ আলাদা। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল এখন নিজেদের সীমাবদ্ধ এবং দক্ষিণ লেবাননে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরাইল ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে। মঙ্গলবার সকালে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তাকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে’ এবং ইসরাইল তাকে হত্যা করবে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, লেবানন শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে হলে লেবানন সরকারকে তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে ইসরাইলি সরকার কেবল লেবানন সরকারের কাছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণই দাবি করছে না, বরং তা না করলে দেশটিকে ভারী মূল্য দিতে হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। ইসরাইলি সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের পেছনে কাজ করছে উত্তর ইসরাইলের বাসিন্দাদের জনমত, যারা দীর্ঘ সময় ধরে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার শিকার, তাদের মধ্যে লেবানন শান্তি আলোচনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে লেবানন শান্তি আলোচনার অভিনয় এবং অন্যদিকে সামরিক হামলার হুমকি ইসরাইল বর্তমানে এই দ্বিমুখী নীতিতে এগোচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো মূল্যে যুদ্ধের পরিধি বজায় রাখা। এই লক্ষ্য পূরণে ইসরাইলি সরকার বর্তমানে কিছু কৌশল অবলম্বন করছে। যার মধ্যে রয়েছে আপাতত লেবাননে সৈন্য মোতায়েন রাখা, অধিকৃত এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করা এবং এমন যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা, যা লেবানন ও ইরানে তাদের হামলার ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।