মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছে পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়া তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পারস্য উপসাগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিপুল

2026-04-22T03:29:40+00:00
2026-04-22T03:29:40+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মহাকাশ থেকেও দেখা যাচ্ছে পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়া তেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পারস্য উপসাগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণ তেলের আস্তরণ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, মহাকাশ থেকে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতেও তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে অঞ্চলজুড়ে এক গুরুতর পরিবেশগত বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত ৭ এপ্রিল হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন কেশম দ্বীপ এলাকার পাঁচ মাইলেরও বেশি জুড়ে তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস জার্মানির মুখপাত্র নিনা নোয়েল জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি জাহাজ ‘শহীদ বাঘেরি’ থেকে এই তেল নিঃসরণ শুরু হয়।

অন্যদিকে, লাভান দ্বীপসংলগ্ন এলাকাতেও বড় আকারের তেলের আস্তরণ শনাক্ত হয়েছে। ৭ এপ্রিল দ্বীপটির একটি তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। ডাচ শান্তি সংস্থা প্যাক্স এর প্রকল্প পরিচালক উইম জুইনেনবার্গ এ ঘটনাকে ‘বড় ধরনের পরিবেশগত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লাভান দ্বীপের অন্তত পাঁচটি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল এখন পার্শ্ববর্তী শিদভার দ্বীপে পৌঁছাচ্ছে। প্রবালসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কচ্ছপ, সামুদ্রিক পাখি ও বিলুপ্তপ্রায় নানা প্রজাতির প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

এছাড়া ৬ এপ্রিলের স্যাটেলাইট ছবিতে কুয়েত উপকূলের কাছেও তেলের আস্তরণ দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তেল নিঃসরণ উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে। বিশেষ করে জেলেদের মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ তেলের কারণে মাছ বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, এই অঞ্চলের প্রায় ১০ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানির জন্য সমুদ্রের পানি শোধন কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। তেলের আস্তরণ এসব কেন্দ্রের ফিল্টার ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।

গ্রিনপিস জার্মানির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৭৫টি বড় তেলবাহী ট্যাংকার অবস্থান করছে, যেগুলোতে প্রায় ১৯ বিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত তেল রয়েছে। আরও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

নিনা নোয়েল বলেন, এই তেল নিঃসরণ অণুজীব থেকে শুরু করে মাছ, পাখি এবং ম্যানগ্রোভ বননির্ভর সামুদ্রিক কচ্ছপসহ পুরো সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে পারস্য উপসাগর এক দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিকে এগোতে পারে।


  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  ইসরায়েল  তেল  পারস্য  উপসাগর 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: