দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ তাপপ্রবাহে গরম গরম চা বা কফি খেলে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাবে, আমরা এমনটাই মনে করে থাকি। তবে এমন আবহাওয়ায় শরীরের ক্লান্তি দূর করতে আমরা কেউ বেছে নিই ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা বা কফি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই প্রচণ্ড গরমে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এবং সুস্থ থাকতে চা না কফি-কোনটি সেরা?
গরমের সঙ্গী যখন চা
চায়ের মধ্যে থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ক্যাফেইন। এগুলো শরীরকে চাঙা করতে সাহায্য করে। তবে গরমের জন্য চায়ের কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে:
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : কয়েকটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, গরম চা পান করলে শরীরে ঘাম তৈরি হয়, যা বাষ্পীভূত হওয়ার সময় শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে প্রশান্তি দেয়।
হাইড্রেটেড থাকা : লিকার চা বা গ্রিন টি শরীরে পানির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। বিশেষ করে লেবু চা বা পুদিনা পাতা দেওয়া চা গরমের ক্লান্তি দূর করতে অনন্য।
মানসিক প্রশান্তি : চায়ের এল-থিয়ানিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখে।
কফি কি এই গরমে মানানসই?
কফি আমাদের তাৎক্ষণিক শক্তি দিলেও গরমের সময় এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পানিশূন্যতার ঝুঁকি : কফিতে চায়ের তুলনায় ক্যাফেইনের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, ফলে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায় এবং পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি : কফি শরীরের মেটাবলিজম সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। এতে গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
তীব্র গরমে নিজেকে সতেজ রাখতে লিকার চা, গ্রিন টি বা লেবু চা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তবে আপনি যদি কফি ছাড়া থাকতেই না পারেন, তবে অবশ্যই কফি পানের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সাধারণ পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, গরমের দিনে হাইড্রেটেড থাকাই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।
সময়ের আলো/কেএইচও