হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তাদের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর এবং ইরানের বাণিজ্যিক প্রবাহ প্রায় থমকে গেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবে ইরান বিকল্প কৌশলে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৩৪টি ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার অবরোধ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে এবং কিছু জাহাজ আবার বাইরের অঞ্চল থেকে ইরানের দিকে প্রবেশ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইঙ্গিত দেয়- সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার তেল সরবরাহ চেইন পুরোপুরি বন্ধ হতে দেয়নি।
বিশেষ করে ‘ডার্ক শিপিং’ বা গোপন নৌ চলাচলের কৌশল এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিছু ট্যাংকার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করছে, যাতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। এমন একটি সুপার ট্যাংকার পরবর্তীতে সমুদ্রেই অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করে উৎস গোপন রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে এর ব্যবহার বেড়েছে।
আরও পড়ুন
অর্থনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, এই চালানগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। বাজারদরের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি হলেও এর মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ হাজার কোটির বেশি। ফলে অবরোধের মাঝেও ইরানের বৈদেশিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবাহ বজায় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় নয়। তারা ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে এবং অন্তত একটি জাহাজ জব্দ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় জলপথে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা বাস্তবসম্মত নয়, বিশেষ করে যখন জাহাজগুলো ছদ্মবেশী কৌশল ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জোরদার করেছে। তারা নতুন নিয়ম জারি করে জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নিতে হবে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন দ্বৈত চাপের মুখে পড়েছে- একদিকে মার্কিন অবরোধ, অন্যদিকে ইরানি নিয়ন্ত্রণ।
এএডি/