ইরানকে চাপে রাখতে সমুদ্রপথে কড়া অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষণা অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্য ওয়াশিংটনের। তবে বাস্তবে হরমুজ প্রণালিতে যা ঘটছে, তা এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলছে।
সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অবরোধের মধ্যেও একের পর এক জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পাড়ি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে শিপিং বিশ্লেষক ব্রিজেট ডিয়াকুন বলেন, অবরোধের লক্ষ্য ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে বড় ধরনের অস্পষ্টতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিভিন্ন বার্তায় অসামঞ্জস্য থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্যাটেলাইট ছবি ও জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিতই জাহাজ যাতায়াত করছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজও। শুধু তাই নয়, ইরানের বন্দরমুখী অন্যান্য জাহাজও অবাধে চলাচল করছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজগুলো এখন আরও কৌশলী হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ট্রান্সপন্ডার সংকেত ‘স্পুফ’ বা জাল করে নিজেদের অবস্থান গোপন করছে। আবার মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের ঘটনাও ঘটছে, যা নজরদারি এড়ানোর একটি পরিচিত কৌশল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর রাখতে তারা পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬টি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে থামানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। এছাড়া এমভি তুসকা নামের একটি জাহাজ জব্দ করার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এত বড় ও ব্যস্ত জলপথে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। বিশেষ করে যখন জাহাজগুলো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে নজরদারি এড়িয়ে চলার পথ খুঁজে নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি এখন এক ধরনের ‘ছায়া প্রতিযোগিতা’র মঞ্চে পরিণত হয়েছে—একদিকে মার্কিন অবরোধ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা কৌশল। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এএডি/