ফিলিং স্টেশনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সময় কাটাতে মিটিং

হিলি প্রতিনিধি

সারাদেশ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার সময় কাটাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় সময় কাটাতে অপেক্ষারতদের

2026-04-23T17:54:49+00:00
2026-04-23T17:54:49+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ফিলিং স্টেশনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, সময় কাটাতে মিটিং
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম 
ফিলিং স্টেশনে এসিআই ফার্টিলাইজার ও প্রোমোটের মিটিং। ছবি : সময়ের আলো
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার সময় কাটাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় সময় কাটাতে অপেক্ষারতদের কৃষক মিটিং করতে দেখা গেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) হিলি ফিলিং স্টেশনে এ দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই দেখা যায় এ উদ্যোগ।

পাম্পে তেল নিতে আসা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের নিয়ে এসিআই ফার্টিলাইজার ও প্রোমোটার নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের প্রতিনিধি ইয়াসিন আলী।

তিনি বলেন, এখানে এসে দেখি তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। অপেক্ষার সময় কাটতে চায় না। তাই এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কৃষকেরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

কৃষকরা জানান, তেল সংকটের কারণে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে সামনের দিকে। আমরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। তেল পেতে আরও দেরি আছে বলে কিছু আলোচনা শুনলাম। এতে আমাদের সময়ও কাটল এবং অভিজ্ঞতাও হলো।

আরেকজন কৃষক বলেন, তেল নেওয়ার জন্য গতকাল রাত থেকে সিরিয়াল নিয়ে আছি। কৃষক মিটিংয়ে নতুন একটা জিনিস জানলাম, প্রোমোটার জমিতে ব্যবহার করলে পাতায় পানি জমে থাকে না। আমি এটা কাজে লাগাব। তেলের দাম বাড়ানোর পরও যদি এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।


সরেজমিনে দেখা যায়, তেল পেতে অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ ট্রাকের পেছনে বিছানা পেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ মোটরসাইকেলের ওপর বসেই সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা এখন যেন নিয়মিত চিত্র।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে। আর কয়েকদিন পরে ধান কাটা শুরু হবে। তখন একটি ধান মাড়াই অটো মিশনে প্রতিদিন ১৫-২০ লিটার তেল লাগবে। সেখানে তিন চার লিটার তেল দিয়ে কী হবে। সরকার খোলা বাজারে তেল সরবরাহ না করা পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না। পাম্পে ট্রাকে ট্রাকে তেল দিলেও লাভ হবে না। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হিলি ফিলিং স্টেশনের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট ছিল। এখন ডিজেলের সংকট। আজ ডিজেল ৫ হাজার লিটার এবং ২ হাজার লিটার বরাদ্দ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা মোতাবেক সিরিয়াল মতে প্রতিটি বাইকে ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হয়েছে। বিকেল তিনটার মধ্যে তেল শেষ হওয়ায় তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

হাকিমপুরের (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হিলি ফিলিং স্টেশনে পুলিশ প্রশাসন ও তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগের মধ্য দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করি। পাশাপাশি খুব শিগগিরই ফুয়েল কার্ড চালু করা হবে যাতে ভোগান্তি কমে আসে। আমরা পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের ফুয়েল কার্ডের কালার আলাদা করব। যাতে করে বরাদ্দকৃত তেল দুই দিনে দিতে পারি। এতে সিরিয়ালও কম হবে এবং ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করছি।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   হিলি  ফিলিং স্টেশন  ব্যতিক্রমী উদ্যোগ  মিটিং  দিনাজপুর  হাকিমপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: