বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তীব্র গরম। দিনে বাইরে বের হওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি রাতেও ঘরে আরাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ আড্ডা—সব জায়গাতেই এখন একটাই প্রশ্ন, এই অস্বস্তিকর গরম আর কতদিন থাকবে এবং কেন আবহাওয়া এতটা চরম হয়ে উঠছে।
দেশজুড়ে বর্তমানে তাপপ্রবাহ চলছে, এবং আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিল মাসজুড়ে একাধিক দফায় তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যার কিছু অংশ আবার অত্যন্ত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সাধারণভাবে কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ৩৬–৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৩৮–৪০ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪০ ডিগ্রির বেশি হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে দেশের তাপমাত্রা প্রায় ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল, যা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
এই অতিরিক্ত গরমের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ‘উচ্চচাপ বলয়’-কে উল্লেখ করছেন, যা এক ধরনের আবহাওয়াগত চাপের স্তর—যার ফলে গরম বাতাস উপরে উঠতে পারে না এবং নিচের স্তরেই আটকে থেকে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি আকাশে মেঘ না থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি মাটিতে পৌঁছায়, ফলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্দ্রতা। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না, যার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা বাস্তব তাপমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি মনে হয় এবং অস্বস্তি বাড়ে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। তবে এ বছর রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর মতো অঞ্চলগুলোকে তাপপ্রবাহপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিতও রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এ বছর ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহ নাও থাকতে পারে। কারণ বজ্রঝড় ও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা বেশি থাকায় মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গরম শুধু মৌসুমি পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনজীবন, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ওপর। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
/ইউএমএইচ