গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘটে যাওয়া বাবা ও ছোট ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা শেষ পর্যন্ত পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল এক ত্রিভুজ প্রেমের টানাপোড়েন, যার কেন্দ্রে ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই। পুলিশ জানায়, বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৮) আদালতে স্বীকার করেছেন- তারই ছোট ভাই সাকিবুর রহমান (১৭) এবং বাবা সোহেল রানার মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, সোহানের সঙ্গে তার এক খালাতো বোনের বিয়ের কথা চলছিল। কিন্তু সেই তরুণীর সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক গড়ে ওঠে ছোট ভাই সাকিবের। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে চরম সহিংসতায় রূপ নেয়।
ঘটনার রাতে পরিবারের অন্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর সোহান পরিকল্পিতভাবে ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। তাকে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে চেষ্টা করা হয় বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুন
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সময় বাবা সোহেল রানা ঘটনাটি দেখে ফেললে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রমাণ গোপন করতে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়। পরে ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়- এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার জন্য নানা কৌশল নেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং আচরণগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকায় নিজ ঘর থেকে সাকিবুর রহমানের মরদেহ এবং কাছের রেললাইন থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে বেরিয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এএডি/