দুদিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বাতাসে যে স্বস্তির ছোঁয়া মিলেছিল, তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হলো না। বৃষ্টি থামতেই আবারও দূষণের চেনা চিত্রে ফিরেছে ঢাকা। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে দেখা যায়, ঢাকার বায়ুমান সূচক দাঁড়িয়েছে ১১৮- এ। এই মাত্রা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ যাদের শ্বাসতন্ত্র বা হৃদরোগজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য বাইরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে কিনশাসা, যেখানে দূষণের মাত্রা আরও বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক- দিল্লি ও কলকাতা তালিকার উপরের দিকেই রয়েছে। এছাড়া কাঠমান্ডু এবং রিয়াদের বায়ুমানও ঢাকার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টি সাময়িকভাবে বাতাসের ধূলিকণা কমিয়ে দিলেও নগরীর স্থায়ী দূষণ উৎস- যেমন যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও শিল্পকারখানার নির্গমন অল্প সময়েই পরিস্থিতিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে স্কোর থাকলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতিকর। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরে কম সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা সাধারণ মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ আর মৌসুমি সমস্যা নয়- এটি এখন নগর জীবনের স্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে। সাময়িক বৃষ্টির ওপর নির্ভর না করে দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
এএডি/