দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট সফলভাবে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, যা ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। নতুন এই সংযোজন সেই ঘাটতি কমাতে সহায়ক হচ্ছে। ফলে সারাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু এই প্রকল্পই নয়, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ৬০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যেখানে উৎপাদন সেই তুলনায় কম ছিল। নতুন বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে, যা শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু আমদানিনির্ভরতা নয়, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো ও জ্বালানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোজন তাৎক্ষণিক সংকট কমাতে সহায়ক হলেও ভবিষ্যতের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এএডি/