ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আরও ৮৪ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় রেল কোম্পানি কেএআই। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগির ভেতরে এখনো অনেক যাত্রী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাত ৮টা ৫২ মিনিটে জাকার্তা সংলগ্ন বেকাসি শহরের রেল স্টেশনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনের (কমিউটার লাইন) পেছনে জাকার্তা থেকে সুরাবায়াগামী দ্রুতগতির ‘আর্গো ব্রমো অ্যাংগ্রে’ ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, লোকাল ট্রেনটির পেছনের বগিটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, যা সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের সবাই লোকাল ট্রেনের যাত্রী এবং আহতদের নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আর্গো ব্রমো অ্যাংগ্রে ট্রেনের ২৪০ জন যাত্রীই নিরাপদ আছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রেনের বগিগুলোর ভেতর থেকে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ও মেটাল কাটার ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো কাটা হচ্ছে। বগিগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় এবং ভেতর জায়গা কম থাকায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উদ্ধারকাজ চালাতে হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একটি লেভেল ক্রসিংয়ে একটি ট্যাক্সি আটকে পড়ার কারণে লোকাল ট্রেনটি লাইনের ওপর থেমে গিয়েছিল। ঠিক সেই সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। তবে সিগন্যাল ব্যবস্থা বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার রেল নেটওয়ার্কে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১০ সালে জাকার্তায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩৬ জন এবং ২০১৫ সালে এক বাসের সাথে ট্রেনের সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত হয়। এই সর্বশেষ দুর্ঘটনার ফলে বেকাসি-চিকারং রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
/কহু