ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটারে এন্ড পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি মানববন্ধন করেছে সেই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সংহতি জানিয়েছেন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কয়েকদফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো-১. অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং উম্মে হানী'র বিষয়ে বিভাগকে দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।
২. নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে স্থায়ীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরীচ্যুত করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ফলাফল ও চাকরির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অনতিবিলম্বে চাকরীচ্যুত বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন
৪. মিমোর পরিবারকে পরিচালনার দায়িত্বে রেখে আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কোনো চাপ যেন না আসে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. তদন্ত সাপেক্ষে উম্মে হানীসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উভয়পক্ষ থেকে অযাচিত যোগাযোগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনের অনাপত্তিপত্র প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
মানববন্ধনে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনায় বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’
মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, ‘বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কিছু শিক্ষকের আচরণে শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত ও মানসিক নিপীড়নের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মরহুমা মিমোর অকাল মৃত্যু সেই পরিস্থিতিরই হৃদয়বিদারক পরিণতি।’
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এএডি/