পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বুধবার। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কর্মীদের প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে রীতিমতো তুঙ্গে।
এই দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। জেলাগুলো হলো—নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভোটের দিন অশান্তি এড়াতে কমিশন ব্যাপক তৎপরতা দেখাচ্ছে। প্রতিটি বুথ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই দফায় মোট ১৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২২০ জন নারী প্রার্থী। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীসহ একাধিক নেতা।
এই দফায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬২৭ জন, নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৭ হাজারের কিছু বেশি, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭৯২ জন। এছাড়া শতায়ু ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৩ জন।
দ্বিতীয় ও শেষ দফায় মোট বুথের সংখ্যা ৪১ হাজার ১টি। এর মধ্যে প্রধান বুথ ৩৯ হাজার ৩০১টি এবং সহায়ক বুথ প্রায় ১৭০০টি। পাশাপাশি থাকছে ২৯৮টি মডেল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ১৩টি বিশেষ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে। মোট ২৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তর ২৪ পরগনায় ৫০৭ কোম্পানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯ কোম্পানি, কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি, ব্যারাকপুরে ১৬০, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৪, বারুইপুরে ১৬১, পূর্ব বর্ধমানে ২৬০ এবং বনগাঁয় ৬২ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি থাকছে ৩৮ হাজার ২৯৭ জন রাজ্য পুলিশও। কলকাতা সংলগ্ন নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম। প্রতিটি বুথে কমপক্ষে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। যেখানে তিনটি বুথ রয়েছে সেখানে এক সেকশন, এবং পাঁচটি বুথ হলে দুই সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হয়েছে।
এছাড়াও ১৪২ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক দায়িত্বে রয়েছেন। শেষ দফায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সাময়িকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ মে।
এদিকে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিভিন্ন জেলায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভোট শুরুর আগেই কিছু বিক্ষিপ্ত গোলমালের অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশি ধরপাকড়ও চলছে। রোববার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১০৯৫ জন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয় ৮০৯ জনকে।
গ্রেফতারের নিরিখে সবচেয়ে বেশি পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন, নদিয়ায় ৩২ জন, হুগলিতে ৪৯ জন এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
/ইউএমএইচ