ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
শেষ দফায় ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট দিচ্ছেন ৩ কোটির বেশি ভোটার। নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিপুল এই অংশগ্রহণ রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে ভোটার তালিকায় কিছু সংযোজন ও বিয়োজনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন মাত্রায়। ৪১ হাজারের বেশি বুথের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার বুথকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই হাজারের বেশি কোম্পানি এবং হাজার হাজার রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনত্বেও পার্থক্য রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে আসন সংখ্যাও সর্বাধিক। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া ও কলকাতাসহ অন্যান্য জেলাতেও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই দফার নির্বাচনে মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে নারী প্রার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আসন এবার বিশেষ নজরে রয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রের লড়াইকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরাও এই দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ভোটের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি, বামপন্থী সিপিএম ও অন্যান্য দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের এই বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শেষ দফার ভোটের ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যে সরকার গঠন করবে কে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আগামী ৪ মে, ফল ঘোষণার দিন।
এএডি/