কাউকে কষ্ট দেওয়া মুমিনের কাজ নয়

তোয়াহা হুসাইন

ইসলাম

মুমিন হবে কল্যাণের বাহক ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। কখনো কাউকে কষ্ট দেবে না সে। করবে না কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার। করবে না

2026-04-30T05:10:07+00:00
2026-04-30T05:10:07+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
কাউকে কষ্ট দেওয়া মুমিনের কাজ নয়
তোয়াহা হুসাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
মুমিন হবে কল্যাণের বাহক ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। কখনো কাউকে কষ্ট দেবে না সে। করবে না কারও প্রতি অন্যায়-অবিচার। করবে না সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুনখারাবি। মুমিনের দৃষ্টি হবে প্রখর, অন্তর হবে পরিশুদ্ধ। কোনো মুমিন হতাশাগ্রস্ত হবে না, থাকবে না তার মনে কোনো সংকীর্ণতা; বরং সে হবে ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন। অমনোযোগী কিংবা অসচেতন হওয়াও উচিত নয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো কাজে গুরুত্বারোপ করে না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৭৯০২)

মুসলমানরা হবে একে অপরের সহযোগী ও কল্যাণকামী। কারও ক্ষতি হোক, কখনো তারা এমনটি চাইবে না। সমাজের প্রত্যেক সদস্যই চাইবে যে, মানুষের মঙ্গল হোক। এর জন্য সে কল্যাণকর কাজগুলোই করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে অন্যের ওপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার বিপদগুলো দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (বুখারি : ২৪৪২)

প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব অপর মুসলিমকে সবদিক থেকে রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা। তাদের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা। যেন কোনো অনিষ্ট বা শত্রু কোনো ক্ষতি করতে না পারে। যখন মুসলিমরা এমন সচেতন ও গুরুত্বদানকারী হবে, তখন মুসলিমদের মাঝে শান্তির ফোয়ারা বইবে। তারা জুলুম থেকে সহজেই মুক্তি পাবে, বাঁচতে পারবে ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য ইমারতস্বরূপ। এর এক অংশ অপর অংশটি শক্তিশালী করে’ (বুখারি : ৬০২৬)। প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসার ক্ষেত্রে মুমিনের দৃষ্টান্ত একটি দেহের মতো। যখন দেহের একটা অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা ও জ্বর ডেকে আনে।’ (মুসলিম : ৬৪৮০)

প্রত্যেক মুসলিমের বৈশিষ্ট্য হলো, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সে গুরুত্বারোপ করবে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা সবাই দায়িত্বশীল। তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের ব্যাপারে জিগ্যেস করা হবে। শাসক একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিগ্যেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক। তাকে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিগ্যেস করা হবে। নারী তার স্বামী-গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেবক তার মালিকের সম্পদের রক্ষক, তাকে ও তার জিম্মাদারি সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।’ (বুখারি : ৮৯৩)

অপর মুসলিমের কল্যাণ কামনা ও প্রকৃত মুসলিমের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা, নিশ্চয় দ্বীন হলো কল্যাণ কামনা। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কার কল্যাণ কামনা? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাবের, তাঁর রাসুলের, মুসলমানদের নেতা ও জনসাধারণের কল্যাণ কামনা’ (নাসায়ি : ৪১৯৯)। আল্লাহ আমাদের প্রকৃত মুসলমান হওয়ার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   কষ্ট  মুমিন  কাজ  নয় 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: