নওগাঁর একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ও পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, একাধিক অনৈতিক সম্পর্ক এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার তার স্বামী শহিদ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার জানান, প্রায় ১৭ বছর আগে তাদের বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের শুরুতে শহিদ আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। শারমিন ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেন। পরবর্তীতে তিনি নওগাঁয় ‘ন্যাশনাল মডেল স্কুল’ নামে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং বর্তমানে সেটির প্রিন্সিপাল ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
লিখিত অভিযোগে শারমিন আরও উল্লেখ করেন, মালিকানা নিয়ে জালিয়াতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মালিকানা শারমিনের নামে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার এবং তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়েছেন শহিদ। কিন্তু পরবর্তীতে সুকৌশলে তিনি প্রতিষ্ঠানটি নিজের নামে করে নেন।
বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে শহিদ একাধিক অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর প্রতিবাদ করলেই শারমিনের ওপর নেমে আসত অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
শারমিন আক্তার আরও জানান, শহিদ গোপনে এক অভিভাবককে বিয়ে করেছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও সম্মানের কথা চিন্তা করে কাইকে কিছু না বলে সহ্য করে আসছিলেন।
শারমিন আক্তারের অভিযোগ, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে আত্রাইয়ের একটি কাজী অফিসের মাধ্যমে তাকে তালাকনামা পাঠানো হয়। ১৭ বছরের সংসার ও সন্তানদের অধিকার উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে তিনি বর্তমানে দিশেহারা। তিনি আরও দাবি করেন, এখন তাকে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ প্রমাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শারমিন আক্তার বলেন, আমি আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার ও আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ গভীর সংকটে। উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকও এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছেন, যা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।
তিনি নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জোই