নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দফতরে চলমান ‘আদিবাসী সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম’-এর ২৫তম অধিবেশন চলছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন ও নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির চিত্র বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেন।
পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে মিজানুর রহমান জানান, বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সব নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুক্তির ধারাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চুক্তির মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৫টি ধারা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ধারাগুলোর মধ্যে ৩টি আংশিক এবং ৪টি ধারা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমি জরিপ ও ব্যবস্থাপনা উদ্যোগসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেন। সচিব জানান, বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় একজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাসে সরকার নিরলস কাজ করছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সচিব আরও বলেন, পার্বত্য এলাকায় বিশেষ বৃত্তি, বহুভাষিক শিক্ষা ও ই-লার্নিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে জেলা-উপজেলা হাসপাতাল ও মোবাইল মেডিকেল টিমের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তিন পার্বত্য জেলায় ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের এক বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সদর দফতরে ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে ২০২৬ পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী এই ২৫তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমাসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করছেন।
সময়ের আলো/জোই