ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য, গোলাবারুদ ও অত্যাবশ্যকীয় রসদ সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক’-এ নতুন করে রসদ লোড করতে দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সহায়তা প্রদানের দায়িত্বে রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চললেও নৌবাহিনীর এই রসদ সংগ্রহের বিষয়টি মার্কিন বাহিনীর চলমান সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিতে জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানবিরোধী এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে এই হিসাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের দেওয়া এই তথ্যে যুদ্ধের প্রকৃত খরচের চিত্র উঠে আসেনি।
সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া সম্পদ প্রতিস্থাপনের খরচ হিসাব করলে প্রকৃত ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি—প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালীতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি নৌ-অবস্থান ও উত্তজনা এখনো কমেনি। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধটিকে একটি ‘সাময়িক বিরতি’ হিসেবে অভিহিত করে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
/কহু