বিশ্বের নজর যখন হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং ইরানের সাথে উত্তেজনার দিকে, ঠিক তখনই তুরস্ক তাদের নৌ-বাহিনীকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলতে মাঠে নেমেছে। তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম জাতীয় বিমানবাহী রণতরী ‘মুগেম’। তুর্কি নৌ-বাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল এরজুমেট তাতলিওলু জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় এক বছর আগেই জাহাজটির কাঠামোর কাজ সম্পন্ন হবে এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে।
মুগেম হবে তুরস্কের ইতিহাসে নির্মিত সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। এর দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিটার এবং ওজন প্রায় ৬০ হাজার টন। এই রণতরীটি ফ্রান্সের বর্তমান শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ ‘শার্ল দ্য গোল’-এর চেয়েও বড় ও শক্তিশালী হবে। এতে প্রায় ৬০টি যুদ্ধবিমান রাখার ব্যবস্থা থাকবে এবং এটি স্বল্প দূরত্বে টেক-অফ করার আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এছাড়া এতে ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেমসহ আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে, যা আসিমিত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইজরায়েল ও ইরানের সাথে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই রণতরী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের সমুদ্র বিশেষজ্ঞ মেইসুনে ইয়াসার জানান, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গ্রিস ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক মৈত্রী তুরস্কের জন্য নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে। তুরস্ক নিজেকে এই অঞ্চলে কোণঠাসা অনুভব করছে। এমন পরিস্থিতিতে মুগেম কেবল একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং তুরস্কের শক্তির এক বড় কৌশলগত লিভার হিসেবে কাজ করবে।
তুরস্কের সাবেক নৌ-অ্যাডমিরাল ইয়াঙ্কি বাসিওলুর জানান, এই প্রজেক্টের পরিকল্পনা অনেক পুরনো হলেও ২০১৭ সাল থেকে এর বাস্তব কাজ শুরু হয়। তুরস্কের নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এই রণতরীকে বিশেষ সুবিধা দেবে। বিশেষ করে কিজিলএলমা আনম্যানড ফাইটার জেট এবং টিবি৩ ড্রোন এই রণতরীর প্রধান শক্তি হিসেবে থাকবে। তবে বাসিওলুর আরও জানান, একটি বিমানবাহী রণতরী একা যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকরী নয়; এর সাথে সাবমেরিন, ডেস্ট্রয়ার এবং আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’ প্রয়োজন, যা তুরস্কের এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
কার্নেগি থিংক ট্যাংকের গবেষক আল্পার কোসকুন জানান, এই রণতরী ন্যাটোতে তুরস্কের দরকষাকষির শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তবে এটি অঞ্চলে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। তুরস্কের এই বিশাল অর্থের প্রকল্পের চেয়ে বর্তমানে আরও বেশি প্রয়োজন কায়ান যুদ্ধবিমান প্রকল্প, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ইস্তাম্বুল-ক্লাস ফ্রিগেটের আধুনিকায়ন।
/কেএইচ