সিলেট মহানগরীকে আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শনিবার করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আজকের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে।
শনিবার (২ মে) সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট এসে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসেছেন। তার কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নতুন কুড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন ও সিলেট সদর উপজেলার মাসুকবাজারে বাসিয়া খালের উদ্বোধন।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
ভৌগলিক কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উল্টো নগরীতে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা এবং পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের পরামর্শে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় আধুনিক স্লুইস গেট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এতে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
এছাড়া শাহপরান ব্রিজ থেকে বাদাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে নির্মাণ করা হবে ফ্লাড ওয়াল।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে সরকার। সিসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বিদেশি সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর জানিয়েছেন, সুরমা নদী খনন দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এ কারিগরি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অপরিকল্পিত খনন টেকসই নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিসিকের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাবনা সরকার গ্রহণ করেছে এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরবাসী আধুনিক ও নান্দনিক নদীতীর পাবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সুরমা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সূচিত হবে।
উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সকাল ১১টায় নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) খননকাজের উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
এএডি/