দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভেনেজুয়েলায় অবতরণ করেছে। দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে মিয়ামি থেকে যাত্রা করে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে কারাকাসের কাছে সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি পরে আবার মিয়ামিতে ফিরে যায়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় দৈনিক সার্ভিস পুনরায় চালু করা প্রথম মার্কিন বিমান সংস্থা হিসেবে তারা এমব্রায়ার ১৭৫ বিমান ব্যবহার করছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ামি বিমানবন্দরে বোর্ডিং গেটে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে ভেনেজুয়েলার জাতীয় খাবার আরেপাস পরিবেশন করা হয় এবং দেশটির জাতীয় পতাকার রঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। বিমানের আসনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তা।
কারাকাসের বাসিন্দা রিকার্দো মারিয়ানি বলেন, এটি দেশের জন্য এবং আমাদের সকলের জন্য একটি বিরাট সুযোগ। আগে ট্রানজিটের পর ট্রানজিট নিয়ে সারাদিন লেগে যেত।
সাত বছর ধরে ফ্লোরিডায় বসবাসকারী বারবারা সেন্তেনো আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এখন আমার আত্মীয়স্বজন সরাসরি উড়ে আসতে পারবেন এবং আমরা বেশি সময় একসাথে কাটাতে পারব।
মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, আগামী মাসগুলোতে আরও ফ্লাইট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অপরদিকে ভেনেজুয়েলার পরিবহনমন্ত্রী জ্যাকলিন ফারিয়া আশা প্রকাশ করেন, তার দেশ প্রতিবছর এক লাখেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সব ধরনের যাত্রীবাহী ও কার্গো ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছিল। চলতি বছর জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবহন বিভাগকে ভেনেজুয়েলায় বিমান চলাচল পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন। গত দুই সপ্তাহ আগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
/কহু