সংগৃহীত ছবিইসলামি শরিয়তে গুরুত্বপূর্ণ ইবাতগুলোর একটি কোরবানি। কোরবানি মূল উদ্দেশ্য ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। কুরবানি কেবল পশু জবাই নয়, বরং এটি নিজের ভেতরের লোভ, লালসা, হিংসা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়ার প্রতীক। কোরবানি আমাদের সমাজে আত্মত্যাগ, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মিতা শিক্ষা দেয়। এছাড়া এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে, যেখানে কৃষক ও খামারিরা তাদের পালিত পশুর সঠিক দাম পায়।
কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষ মুকিম ব্যক্তি যদি ১০ জিলহজ ভোর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তির কোরবানি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে কুরবানী করল না, সে যেন ঈদগাহের কাছেও না আসে।‘ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১২৩)
কোরবানির নেসাব হলো, স্বর্ণে সাড়ে ৭ ভরি, রুপায় সাড়ে ৫২ ভরি। অন্য সম্পদ হলে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্য হতে হবে। স্বর্ণ বা রুপা আলাদাভাবে নেসাব না হলেও, দুটো মিলে বা অন্য অতিরিক্ত সম্পদ যোগ করে যদি রুপার নেসাব পূর্ণ হয়, তহলেও কুরবানি ওয়াজিব। স্বর্ণ-রুপার গহনা, নগদ টাকা, প্রয়োজনের বাইরে জমি ও অতিরিক্ত আসবাব, সবই নেসাবের হিসেবে ধরা হবে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা, স্বর্ণ-রুপা ও গহনা, সব হিসাবের মধ্যে আসবে। বসবাস ও ভোগ্যপণ্যের বাইরে জমি ও অতিরিক্ত বাড়িও ধরা হবে। ব্যবসার পণ্য এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাব, পোশাক ও তৈজসপত্রও গণনায় আসবে। এসব সম্পদের ওপর এক বছর পার হওয়া শর্ত নয়।
কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার সময়
অনেকে মনে করেন, শুধু ১০ জিলহজে নেসাব না থাকলে কুরবানি লাগে না। এই ধারণা ঠিক নয়। ১০ থেকে ১২ জিলহজ, এই তিন দিন কুরবানির সময়। এই সময়ের মধ্যে যেকোনো দিন নেসাব পরিমাণ সম্পদ অর্জন হলে কুরবানি ওয়াজিব হবে। যেমন, ১১ বা ১২ জিলহজে হঠাৎ সম্পদ পেলেও কুরবানি দিতে হবে। দিন চলে গেছে, এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।
তথ্যসূত্র : (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬), (আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫০৬)
/কহু/শাআহ