মাতৃভূমি রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো শত্রুতা বা হুমকির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে ওয়াশিংটন যদি তাদের দমনমূলক নীতি পরিহার করে, তবে তেহরান এখনও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিশর, ইরাক ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন সংলাপে এসব কথা বলেন আরাগচি। এ সময় তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ও জায়নবাদী শাসনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ অবসানে ইরানের সর্বশেষ অবস্থান ও উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হলো ইরানবিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে তাদের প্রতি চরম অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ইরান দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া নতুন দফার আলোচনায় তেহরান সরল বিশ্বাসেই অংশ নিয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোর গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান এই যুদ্ধের সূচনাকারী নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অযৌক্তিক দাবি, হুমকিমূলক ভাষা এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে, তবেই কেবল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। অন্যথায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে তারা বজ্রকঠোর জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
টেলিফোন সংলাপে আঞ্চলিক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তাদের নিজ নিজ সরকারের সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদানেও তারা নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
/কহু