চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। শুরুতে ‘অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের’ গল্প সামনে এলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে পারিবারিক কলহ থেকে জন্ম নেওয়া এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আলমগীরের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর ২০০৭ সাল থেকেই তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকলেও প্রায় আট থেকে নয় মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে আবার তাদের একসঙ্গে বসবাস শুরু হয়। তবে দাম্পত্য কলহ অব্যাহত ছিল।
ঘটনার দিন ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। রহিমা ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিব (১৮) মিলে ঘরে থাকা ‘ধামা দা’ দিয়ে আলমগীরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এলাকায় প্রচার করেন, রাতে ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আলমগীরকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশের কাছে তাদের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে তদন্ত জোরদার করা হয়।
শুক্রবার (১ মে) ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ রহিমা বেগম (৩৫) ও তার ছেলে রাকিবকে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ‘ধামা দা’ উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুরু থেকেই ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ তার বাড়ির বাইরে পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত হামলাকারীর কথা বলা হলেও পুলিশের দ্রুত তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায়।
সময়ের আলো/জোই