মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দখলকৃত সেই জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর নিয়ে জানা যায়, গজারিয়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাজারে কুইয়াগাড়া মৌজায় আরএস ২৩০ নম্বর দাগের অন্তত ৬ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি রাজনৈতিক প্রভাবে দখল করা হয়েছে। দখলকৃত জায়গাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৫ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। খতিয়ানে সম্পত্তিটি রাস্তা এবং সরকারি মালিকানাধীন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দখলের পেছনে রয়েছেন যুবলীগ নেতা আনোয়ার ফকির ও ছাত্রলীগ নেতা বিল্লাল। চাচা আনোয়ার ফকির ও জুলহাসের পক্ষে দোকানভাড়া উত্তোলনসহ যাবতীয় কার্যক্রম দেখাশোনা করেন বিল্লাল।
শুক্রবার (১ মে ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, দড়িকান্দি বাজারসংলগ্ন রাস্তার একপাশ দখল করে সারিবদ্ধভাবে ৮টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০১৬-১৭ সালের দিকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এসব স্থাপনা তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে লাইব্রেরি, হোটেল, মুদি দোকান ও লাকড়ির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। যেখান থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
রাজিব হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের চোখের সামনে রাতারাতি দোকানগুলো তোলা হয়েছিল। তখন প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যানের সরাসরি মদদ ছিল এই দখলে।
আরেক বাসিন্দা আরাফাত হোসেন জানান, স্থাপনা নির্মাণের সময় আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছিলাম। তৎকালীন ইউএনও সরেজমিনে এসেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এখন ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, আমাদের দাবি সরকারি জমি অবিলম্বে দখলমুক্ত করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা বিল্লালের দাবি করেন, বিএনপি সরকারের আমলে রাস্তার জন্য আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আমরা রাস্তার পাশের সরকারি জায়গায় দোকানগুলো নির্মাণ করি।
এ বিষয়ে এলজিইডির গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সামিউল আরেফিন বলেন, সরকারি রাস্তার জমি জোরপূর্বক দখলের কোনো আইনি সুযোগ নেই। দখল উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না, আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। দ্রুতই খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই