মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ডাচ-বাংলা প্যাক লিমিটেড নামক একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকদের মুখে দাড়ি রাখার ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়মিত ক্লিন সেভ করার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বালুয়াকান্দিতে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস-বাংলাদেশ যৌথ মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রধান শর্ত হিসেবে ক্লিন সেভ থাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সুইং সেকশনে দাড়ি রাখা ব্যক্তিদের নিয়োগে অনীহা এবং কর্মরতদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এছাড়াও যথাসময়ে বেতন পরিশোধ না করা, জাতীয় ছুটির দিনে কারখানা খোলা রাখা, জোরপূর্বক নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় বাহিরে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক আরিফুল ইসলাম বলেন, এখানে কাজ করতে হলে ক্লিন সেভ থাকা বাধ্যতামূলক। দাড়ি ছোট করে রাখলেও কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায়।
আরেক শ্রমিক সোহেল রানা অভিযোগ করেন, নিয়োগের সময়ই বলে দেওয়া হয় যে দাড়ি রাখা যাবে না। যারা ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখেন তাদের সুইং সেকশনে কাজ দেওয়া হয় না।
আরেক শ্রমিক নাহিদ হোসেন বলেন, আপনারা যা শুনেছেন তা শতভাগ সত্য। এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে দাড়ি রাখা যায় না। দাড়ি রাখা নিয়ে কড়াকড়ি ছাড়াও জাতীয় ছুটির দিনে কাজ করানো এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের মতো অনিয়ম এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক জি.এম. মহিউদ্দিন বলেন, আপনারা যা শুনেছেন তা সত্য; আমাদের কোম্পানির পলিসি অনেকটা এরকমই। আমরা মূলত কোম্পানির নিজস্ব নীতিমালা বাস্তবায়ন করছি। প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি সপ্তাহে কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের শেভ করার জন্য ভাতা প্রদান করা হয়। যেহেতু আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই তাই কর্মীদের নিয়মিত শেভ করার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। তবে শেভ না করার বা দাড়ি রাখার কারণে চাকরি চলে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। কেউ দাড়ি রাখতে চাইলে তাকে সবসময় মাস্ক পরিধানসহ নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। আমার মনে হয় যার চাকরি গিয়েছে তিনি মূলত এসব নিয়মকানুন যথাযথভাবে পালন করেননি।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা কি আছে তা আমার জানা নেই। এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। আপনারা বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
এ বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মুন্সীগঞ্জের সহকারী মহাপরিদর্শক ডা. মো. ফরিদুল হাসান বলেন, দাড়ির কারণে কাউকে চাকরি না দেওয়া বা ছাঁটাই করা শ্রম আইনের পরিপন্থি। ডাচ-বাংলা প্যাক লিমিটেডের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে গড়িমসিসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে ইতিপূর্বেও মামলা হয়েছে। নতুন এই অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করবো।