লেবাননে গত দুই মাস ধরে চলা টানা ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার (২ মে) এই সর্বশেষ হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ব্যাপক সামরিক অভিযানে লেবাননজুড়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬০ দিনে নিহতদের পাশাপাশি অন্তত ৮ হাজার ১৮৩ জন লেবাননি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নতুন করে আরও ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১১ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন জনপদে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি।
শনিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হওয়া এই হামলাগুলোতে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলো। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো দ্রুত মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। গত এক দিনে যে ৪১ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
ইসরায়েল দাবি করছে, তারা নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তবে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে এই নির্বিচার হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা লেবাননের সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বর্তমানে লেবাননের এই সংকটময় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ২ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসানে বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
প্রতিদিন বাড়তে থাকা নিহতের এই তালিকা কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর চালানো ক্রমাগত আগ্রাসনের প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ না হয় তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ