দেশের ১১২টি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে একযোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ এমবিবিএস কোর্সের ক্লাস শুরু হচ্ছে। রোববার (৩ মে) সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নতুন শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারা দেশের ১১২টি মেডিকেল কলেজের নবীন শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন। এ বছর এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সের জন্য আয়োজিত যৌথ ভর্তি পরীক্ষায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এ বছর ১১ হাজার ৮৩৩ জন দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন, যারা আজ থেকে তাদের স্বপ্নযাত্রার প্রথম পাঠ শুরু করছেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রতিটি মেডিকেল কলেজ নিজস্ব আঙ্গিকে ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করবে। এই বরণ অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষত্ব হলো পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা তৈরি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থী নিজ নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে একটি করে বৃক্ষরোপণ করবেন। এর মাধ্যমে একযোগে সারা দেশে ১১ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হবে। এছাড়া মেডিকেল শিক্ষার মানসিক চাপ সামলানোর জন্য প্রতিটি কলেজে বিশেষ ‘মোটিভেশনাল লেকচার’ বা উদ্বুদ্ধকরণ বক্তৃতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নবীনদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং বিএমডিসি সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার ১০০টি আসন এবং ৬৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ২৭৮টি আসন রয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত সাতটি মেডিকেল কলেজে রয়েছে আরও ৪৫৫টি আসন। এ বছর ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, এমবিবিএস কোর্সের ক্লাস আজ থেকে শুরু হলেও ডেন্টাল কলেজ এবং মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটগুলোর (বিডিএস কোর্স) ক্লাস চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির এই উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নবীন চিকিৎসকদের এই নতুন পথচলা দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।