ভারতের রাজধানী দিল্লির বিবেক বিহার এলাকায় একটি চারতলা আবাসিক ভবনে রোববার (৩ মে) ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি বিস্ফোরণের ফলে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন যাদের স্থানীয় গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনটি থেকে ১২ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং দগ্ধ হয়ে ৯ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
দ্বিতীয় তলা থেকে অরবিন্দ জৈন (৬০), তার স্ত্রী অনিতা জৈন (৫৮), পুত্র নিশান্ত জৈন (৩৫), পুত্রবধূ আঞ্চল জৈন (৩৩) এবং মাত্র দেড় বছর বয়সী শিশু আকাশ জৈনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তৃতীয় তলায় প্রাণ হারিয়েছেন নিতিন জৈন (৫০), তাঁর স্ত্রী শৈলী জৈন (৪৮) এবং তাদের ২৫ বছর বয়সী পুত্র সম্যক জৈন। নিচতলায় শিখা জৈন (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন এবং তাঁর স্বামী নবীন জৈন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ হিসেবে অভিহিত করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে, স্থানীয় প্রশাসন, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে।
আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। শাহদারা বিভাগের ডিসিপি রাজেন্দ্র প্রসাদ মিনা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম টিম।
বিবেক বিহার দিল্লির অন্যতম প্রধান আবাসিক এলাকা হওয়ায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি পুরো শহরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের শিখা এত দ্রুত ছড়িয়েছিল যে বাসিন্দারা বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি।
ভবনের ওপরের তলাগুলো থেকে এখনো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে এবং আগুনের তাপে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসি বিস্ফোরণের দাবিটি খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ গরমের এই সময়ে অতিরিক্ত লোডের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে। শোকাতুর এই পরিবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদারকি করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি