ছোট-বড় সবার প্রিয় আইসক্রিমকে বিষে পরিণত করছিল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার একটি কারখানা। অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে খাদ্যোপযোগী রঙের বদলে সরাসরি ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করার অপরাধে ‘লোটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরি’তে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে আলমডাঙ্গার হাউসপুর এলাকায় অবস্থিত ওই ফ্যাক্টরিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে দেখা যায়, ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে। খাবারে ব্যবহারের অযোগ্য শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত রং আইসক্রিমে মেশানো হচ্ছিল, যা সরাসরি মানবদেহের জন্য বিষ তুল্য। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল।
অভিযান চলাকালীন ফ্যাক্টরির ৮টি ফ্রিজে রক্ষিত কয়েক হাজার পিস অবৈধভাবে উৎপাদিত আইসক্রিম পাওয়া যায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই কর্মকাণ্ডের দায়ে ফ্যাক্টরির মালিক সাজেদুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসঙ্গে জব্দকৃত কয়েক লাখ টাকার আইসক্রিম তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইন অমান্য করে যারা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জোই