বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ভিক্ষাবৃত্তি, ভাতা নিচ্ছেন অন্যজন

এম সাহেব আলী, উলিপুর

সারাদেশ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জোবেদা বেগমের দিন কাটছে ভিক্ষা করে। সরকারি ভাতা ভোগ

2026-05-03T18:05:01+00:00
2026-05-03T18:05:01+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ভিক্ষাবৃত্তি, ভাতা নিচ্ছেন অন্যজন
এম সাহেব আলী, উলিপুর
প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম 
বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলামের স্ত্রী জোবেদা বেগম ও তার ছেলে আব্দুল জব্বার। ছবি : সময়ের আলো
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জোবেদা বেগমের দিন কাটছে ভিক্ষা করে। সরকারি ভাতা ভোগ করছেন এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। 

গত বছরের ১১ মার্চ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জামুকা বরাবর এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আব্দুল জব্বার।  

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতীয় তালিকার ৩৯৭০৩ নম্বরধারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলামের বাড়ি উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে। তার সহযোদ্ধাদের মতে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই তিনি নিখোঁজ হন এবং ধারণা করা হয় তিনি শহিদ হয়েছেন। বাবার অভাব অনটনের সংসারে বড় হওয়া একমাত্র ছেলে আব্দুল জব্বার ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এবং মা জোবেদা বেগম মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করেন। 

অন্যদিকে, উত্তর দলদলিয়া ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম নামে এক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ২০১০ সাল থেকে ৩৯৭০৩ নম্বরটি ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছেন। নাম ও বাবার নামে মিল থাকার সুবাদে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে তিনি এই জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


জব্বারের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালুর জন্য ২ লাখ টাকা খরচ হবে বলে দাবি করে। পরবর্তীতে ৮ হাজার টাকা দিলেও কাজ হয়নি। উল্টো সমাজসেবা অফিস থেকে তদন্তের নামে নথিপত্র জালিয়াতি করে তার মাকে ‘ভুয়া’ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৩ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে হওয়া তদন্তে সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, জব্বারের মায়ের ঠিকানা ভুল দেখিয়ে একটি দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে জানা গেছে। 

হাতিয়া অনন্তপুরের মফিজুল ইসলামের সঙ্গে ভারতের মুজিব ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন সরকার, নুর মোহাম্মদ, রবিউল ইসলাম ও সুবল চন্দ্র রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন তালিকায় থাকা ৩৯৭০৩ নম্বরটি তাদের সহযোদ্ধা মফিজুলের, যিনি যুদ্ধের পর আর ফিরে আসেননি। তারা দাবি করেন, দলদলিয়া ইউনিয়নের ওই কৃষি কর্মকর্তার এই নম্বর ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেই।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা তথ্য অনুসন্ধানের সত্যতা স্বীকার করে জানান, উপর মহলের নির্দেশনা পেলে নতুনভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বাবার প্রাপ্য সম্মানের আশায় এবং ভিক্ষুক মাকে অভাবমুক্ত করতে এখন প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন আব্দুল জব্বার।

সময়ের আলো/জয়/জোই



  বিষয়:   বীর মুক্তিযোদ্ধা  স্ত্রীর  ভিক্ষাবৃত্তি  ভাতা  কুড়িগ্রাম  উলিপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: