মেহেরপুরে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের দায়ে আসামি দাউদ আলী (৪৮) নামের এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৩ মে) দুপুরে শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
এছাড়াও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। দাউদ শহরের তাঁতীপাড়ার বাসিন্দা।
মামলার বিরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ জুন শিশুটি পার্শ্ববর্তী চাচার বাড়িতে ঘুমানোর জন্য রাত ১০টার সময় বাড়ি থেকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে শিশুটিকে একা পেয়ে দাউদ আলী নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে শিশুটিকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি চাচার বাড়িতে পৌঁছিয়েছে কিনা পরিবার থেকে রাতেই খবর নেওয়া হয়। কিন্তু তারপর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়না। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে না পেয়ে ভোর থেকে আবারও শিশুটির সন্ধান করতে থাকে পরিবার। অনেক খোঁজাখুজির পর পরদিন সকাল ৭ টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে দাউদের বাড়িতে পাওয়া যায়। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘটনা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে শিশুটি বলে তাকে দাউদ নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে।
পরে শিশুটির বাবা বাদি হয়ে ২০১৮ সালের ১৯ জুন মেহেরপুর সদর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। ঐ বছরের ১৩ আগস্ট দাউদকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম খান। ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ আদেশ দেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজু রহমান তুহিন, আর আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পল্লভ ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা।
সময়ের আলো/জোই