এপ্রিলে ধাক্কা খেল রেমিট্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) একটি বড় ধরনের চড়াই-উতরাই লক্ষ করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ উপাত্ত এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ

2026-05-04T03:20:21+00:00
2026-05-04T03:20:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
এপ্রিলে ধাক্কা খেল রেমিট্যান্স
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৩:২০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) একটি বড় ধরনের চড়াই-উতরাই লক্ষ করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ উপাত্ত এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বাস্থ্যকর প্রবৃদ্ধি থাকলেও, চলতি বছরের গত মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মূলত মার্চ মাসে যে গতির দেখা মিলেছিল, এপ্রিল মাসে তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

এপ্রিলের সামগ্রিক চিত্র
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে (১-৩০ এপ্রিল) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩,১২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের অর্থাৎ, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এর পরিমাণ ছিল ২,৭৫২.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের একই মাসের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৩.৬ শতাংশ। অর্থবছরের শেষ দিকে এসে বছরের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক মনে হলেও মাসিক চিত্রটি ভিন্ন কথা বলছে।

মার্চের তুলনায় বড় ব্যবধানে হ্রাস
প্রতিবেদনে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলের প্রবাহ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩,৭৫৫.০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একটি রেকর্ড। কিন্তু এপ্রিল মাসে তা কমে ৩,১২৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসায় মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় কমেছে ৬২৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৬.৭ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত উৎসব বা ঈদ পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে এমন একটি সাময়িক ভাটা দেখা যায়, যার প্রতিফলন ঘটেছে এপ্রিলের এই তথ্যে।

অর্থবছরের ১০ মাসের খতিয়ান
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬) চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৯,৩৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪,৫৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, অর্থবছরের হিসাবে এখনও ১৯.৫ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। তবে এপ্রিল মাসের এই মন্থরগতি যদি মে এবং জুন মাসেও অব্যাহত থাকে, তবে অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মাসের শেষ দিনের প্রভাব
গত ৩০ এপ্রিল এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পুরো এপ্রিল মাসের দৈনিক গড় সংগ্রহ ছিল প্রায় ১০৪ মিলিয়ন ডলার। মাসের শেষ দিনে গড় সংগ্রহের চেয়ে বেশি আয় এলেও তা মাসের শুরুতে হওয়া ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পর্যাপ্ত ছিল না। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ মূলত মাসের মাঝামাঝি সময়ে বেশ মন্থর ছিল।

বিশ্লেষকদের অভিমত
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত মার্চ মাসে ঈদের কারণে প্রবাসীরা পরিবারের প্রয়োজনে বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন, যার ফলে এপ্রিল মাসে তাদের সঞ্চয় থেকে পাঠানোর পরিমাণ কমেছে। দ্বিতীয়ত আনুষ্ঠানিক চ্যানেল (ব্যাংকিং চ্যানেল) এবং অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের (হুন্ডি) মধ্যে ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য রেমিট্যান্স প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি ব্যাংকিং চ্যানেলে রেট আকর্ষণীয় না হয়, তবে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে চলতি বছরের মধ্যে এপ্রিলে হঠাৎ প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধ একটি কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসারাইলের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী আয়ে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রবাসী কাতার-দুবাই এবং সৌদিতে রয়েছেন। তাদের অনেকেই হয়তো বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আবার যখন যুদ্ধের সর্বোচ্চ উত্তেজনা ছিল তখন হয়তো তারা আগেই বেশি অর্থ প্রেরণ করেছে দেশে থাকা স্বজনদের। ফলে বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও মাসিক ভিত্তিতে ১৬.৭ শতাংশ পতন নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


  বিষয়:   এপ্রিল  রেমিট্যান্স  প্রবাসী আয় 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: