ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় সুপারস্টার বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) অভাবনীয় সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রাথমিক প্রবণতায় বিজয়ের দল ৮০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থাকায় চেন্নাইয়ের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় শাসন করা এআইএডিএমকে এবং নবাগত টিভিকে-র মধ্যে সম্ভাব্য জোটের আলোচনা পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে, যা এক সময় স্রেফ দম্ভ আর শর্তের বেড়াজালে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনের আগে পর্দার আড়ালে এআইএডিএমকে ও টিভিকে-র মধ্যে জোটের আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, বিজয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া কঠিন শর্তের কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। মাত্র দু’বছর আগে গঠিত একটি দল হয়েও বিজয় জোটের নেতৃত্ব, নিজের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থিতা এবং মোট ২৩৪টি আসনের অর্ধেক দাবি করেছিলেন। বহুবার রাজ্য শাসন করা এআইএডিএমকে-র পক্ষে একজন নবাগতকে এতখানি ছাড় দেওয়া সম্ভব ছিল না।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয়পক্ষই জনসম্মুখে একে অপরের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এআইএডিএমকে পুনরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং বিজয় ঘোষণা করেন যে তার দল এককভাবে ২৩৪টি আসনে লড়াই করবে। গত মার্চ মাসে এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী বিজয়ের দলের সাথে জোটের সম্ভাবনাকে স্রেফ ‘সংবাদমাধ্যমের গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এনডিটভির প্রতিবেদনে বলা হয় নির্বাচনের ময়দানে বিজেপি-এআইএডিএমকে এবং ডিএমকে-র বিরুদ্ধে বিজয়ের আক্রমণাত্মক প্রচারণায় প্রাক-নির্বাচনী জোটের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ফলাফলের প্রবণতা বলছে, বিজয় এখন তামিল রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি। কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ভোট পরবর্তী সমীকরণে এআইএডিএমকে ও টিভিকে-কে হয়তো আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে হতে পারে।
যদি শেষ পর্যন্ত জোটের প্রয়োজন পড়ে, তবে এআইএডিএমকে-কে বিজয়ের সমান ক্ষমতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে, বিজয়কেও তাঁর ‘একক লড়াই’ এবং ‘আদর্শিক দূরত্বের’ প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হবে।
/কহু