পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে যখন পরিবর্তনের তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইছে, তখন মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রমাণ দিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত রণকৌশল নস্যাৎ করে ২৬ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন এই হেভিওয়েট নেতা। দলত্যাগের পর হুমায়ুনকে রাজনৈতিকভাবে মুছে ফেলার যে ছক শাসকদল কষেছিল, রেজিনগরের রায় যেন তারই মোক্ষম জবাব।
তৃণমূল ত্যাগের পর নিজের গড়া নতুন দল নিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন হুমায়ুন কবির। বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে স্থাপত্য নির্মাণ এবং দীর্ঘদিনের নিবিড় জনসংযোগই ছিল তার প্রধান হাতিয়ার। রেজিনগরের মানুষ এবার দলীয় প্রতীকের চেয়ে হুমায়ুনের ‘ব্যক্তিগত ক্যারিশমা’র ওপরই বেশি আস্থা রেখেছে। তৃণমূলের প্রার্থী আতাউর রহমানকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে হুমায়ুন প্রমাণ করেছেন, মুর্শিদাবাদের মাটিতে তার জনভিত্তি এখনও অটুট।
রেজিনগরে হুমায়ুন নিজের দুর্গ রক্ষা করতে পারলেও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তির এই সন্ধিক্ষণে বাংলা এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী হতে চলেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ— পুরো রাজ্য আজ গেরুয়া ঝড়ে কম্পমান। আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। যে বাংলা একসময় বাম আর তৃণমূলের বাইরে কিছু ভাবত না, সেই বাংলা আজ পরিবর্তনের নতুন জোয়ারে ভাসছে।
রেজিনগরের গণনাকেন্দ্রের বাইরে যখন হুমায়ুন সমর্থকদের উল্লাস চলছে, ঠিক তখনই রাজ্যের বাকি অংশে শুরু হয়েছে গেরুয়া আবিরের খেলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাংলা অস্মিতা’র লড়াইকে পরাস্ত করে দক্ষিণপন্থী রাজনীতি আজ বাংলার মসনদ দখলের পথে। দীর্ঘ সময় পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে তৃণমূলের দাপট মুছে গিয়ে এক নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে।
শেষ মুহূর্তের হিসাব অনুযায়ী, রেজিনগরে হুমায়ুন কবির ব্যক্তিগতভাবে জয়ী হলেও রাজ্যের শাসনভার চলে যাচ্ছে নতুন এক শক্তির হাতে।
/কহু