রাজধানীর শাহবাগ হাবিবুল্লাহ রোডে একটি মেস থেকে আবিদ হাসান জিসান(২৬) নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু। তিনি সদ্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্ন শেষ করেছেন।
সোমবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তার বন্ধু ও রুমমেট অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।
নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা মৃত বলে জানান। হাসপাতালে মৃত জিসানের বন্ধু ও রুমমেট দীপ্ত সিংহ জানান, তারা এক সাথে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে। গত বছর একই কলেজ থেকে ইন্টার্ন শেষ করে। তিন মাস আগে ধানমন্ডি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিসিন বিভাগে চাকরী নেন। একসাথে শাহবাগ হাবিবুল্লাহ সড়কের একটি মেসে থাকি। আমি নিজেও একটি ট্রেনিংয়ে আছি।
দীপ্ত আরও জানান, সকালে বের হওয়ার সময় তাকে রুমে ভালই দেখে গেছি। দুপুর ১টার দিকে জিসানের বড় ভাই জাহিদ হাসান ফোন দিয়ে বলে জিসান ফোন ধরছে না, বিষয়টা একটু দেখতে। এরপর বাসায় গিয়ে জিসানকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। কয়েকবার ডেকেও কোন সাড়াশব্দ পাইনি। এরপর দ্রুত জিসানকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত বলে জানান। জিসানের হাই প্রেসার ছিল। নিয়মিত ওষুধ সেবন করতো।
আরও পড়ুন
বড় ভাই জাহিদ হাসান জানান, তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আহসান হাবিব। আমরা দুই ভাই, জিসান ছিল ছোট। গতবছর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্ন শেষ করে। তিনমাস যাবত ধানমন্ডি পপুলারে চাকরী নেয়। সেখানে নিয়মিত রোগী দেখতো।
তিনি আরও জানান, জিসান খুবই আদরের ছিল আমাদের। দৈনিক দুই থেকে তিনবার ফোন করে ওর খবর নিতাম। আজ সকালে একবার একবার ফোন করে কথা বলি। দুপুরে অনেকবার ফোন দিয়ে তাকে পাইনি। পরে ওর বন্ধু দীপ্তকে ফোনে বিষয়টা বলি। এরপর হাসপাতালে এসে শুনি জিসান আর নেই। জিসানের হাইপ্রেসার ছিল, নিয়মিত ওষুধ খাইতো। কিভাবে ওর মৃত্যু হলো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
এএডি/