পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব ফলাফলের পর শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক বার্তাও দিতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজধানী দিল্লিতে দলীয় সদর দফতরে বিজয়োৎসবের মঞ্চে এক ভিন্ন রূপে দেখা গেল নরেন্দ্র মোদিকে- যেখানে তার পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে বক্তব্য, সবকিছুতেই ছিল স্পষ্ট ‘বাঙালিয়ানা’র ছাপ।
ধুতি-পাঞ্জাবি ও উত্তরীয় পরে মঞ্চে উঠে মোদী বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই জয় প্রতিশোধের নয়, পরিবর্তনের। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে ‘ভয়মুক্ত বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার ভাষণে উঠে আসে গঙ্গা থেকে সাগর পর্যন্ত এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র।
এদিকে, রাজ্যে সরকার গঠনের প্রস্তুতিও জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। সূত্রের খবর, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন, অর্থাৎ ২৫ বৈশাখেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ হতে পারে রাজভবনে। এই দিনটিকে বেছে নেওয়াকে অনেকেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন- বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তাকে যুক্ত করার প্রয়াস হিসেবে।
আরও পড়ুন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলে নিজেদেরকে বাঙালি আবেগের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা স্পষ্ট। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবধারাকে সামনে এনে একটি প্রতীকী বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে সরকার গঠনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বৈঠক শুরু করেছে। অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। শিগগিরই পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে, যিনি হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।
এএডি/