যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে তেহরান। সোমবার (৪ এপ্রিল) রাতে এই হামলা সংঘটিত হয়।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। এর মধ্যে তিনটি আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেশ কিছু ড্রোনও আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেগুলো ছিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের ফলাফল।
তবে সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। ড্রোনের আঘাতে ফুজাইরাহ প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানায়, ইরান থেকে আসা একটি ড্রোন ওই স্থাপনায় আঘাত হানলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি নাগরিকদের জন্য পরপর দুটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। প্রথম সতর্কতার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দ্বিতীয় সতর্কতা পাঠানো হয়, যেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, দেশের বিমানবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আকস্মিক এই আক্রমণের ঘটনায় দেশটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।