অনিয়মে জিরো টলারেন্স ঘোষণা তামিমের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘কমিটি টিম’ বিতর্ক, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন আর প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট। এসব নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি।

2026-05-05T01:40:13+00:00
2026-05-05T01:40:13+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
অনিয়মে জিরো টলারেন্স ঘোষণা তামিমের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:৪০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘কমিটি টিম’ বিতর্ক, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন আর প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট। এসব নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নিয়েই কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উদ্বোধনী দিনে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তার সময়ে কোনো দল বাড়তি সুবিধা পাবে না, সবাই খেলবে সমান সুযোগে।

সোমবার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে লিগের উদ্বোধনী দিনে আম্পায়ারিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘এখন কোনো কমিটি টিম নেই, তাই না? কমিটি টিম এখন আর কোনো সমস্যা নয়। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, যেহেতু অতীতে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাই প্রতিপক্ষ দলগুলোও এর সুযোগ নেয়। এমনকি যখন কিছুই ঘটে না, যেহেতু বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, তাই অনেকেই এটি বলে থাকেন। আমি আশা করি আমার অধীনে কমিটি টিমের মতো কিছু ঘটবে না। সবাই সমান এবং সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।’

এ ছাড়া মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা গ্যালারি তৈরির কথাও জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। সম্প্রতি অ্যাডহক কমিটির দেওয়া ক্যাপ্টেন্স কার্ড নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। প্রশ্ন ছিল, অধিনায়করা সুবিধা পেলে ক্রিকেটাররা কেন পাবে না। এরপর দ্বিতীয় বোর্ড সভাতেই নেওয়া হয় নতুন সিদ্ধান্ত। তামিম জানান, যে গ্যালারিতে কাজ চলছে, এর মূল কারণ হলো আমরা বাংলাদেশের যতজন ক্রিকেটার (প্রায় ১৭০-১৮০ জন) জাতীয় দলে খেলেছেন, তাদের জন্য একটি সুন্দর লাউঞ্জ তৈরি করছি। ভেতরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি লাউঞ্জ থাকবে। এটি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য ডেডিকেটেড থাকবে। এ ছাড়া এখানে কোয়াবের একটি নিজস্ব অফিসও থাকবে।

এদিন বিসিবির ভেতরের একটি অনিয়মের কথাও সামনে আনেন, যা দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত। মাঠ ও গ্যালারির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে অসঙ্গতি তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘আমি একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মহিলার কাছে শুনলাম যে তাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হয়। গতকাল আমি বিসিবিতে গিয়ে জানতে পারলাম যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ৬৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন তাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমি অবাক হয়েছিলাম। বিসিবির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে, তবে সিরিজের সময় বিসিবি টেন্ডারের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ করে। যা ঘটে তা হলো, একটি কোম্পানি টেন্ডার পায় কিন্তু বিসিবির কর্মীরাই তখন ৩০-৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরবরাহ করে। কোম্পানিটি বিসিবির কাছ থেকে পেমেন্ট নেয় এবং তারপর তাদের মান অনুযায়ী কর্মীদের টাকা দিয়ে মুনাফা রেখে দেয়।’

এসব অনিয়ম দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তামিমের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি বেতন দেওয়া হবে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে। বিসিবির অর্থ বিভাগে বেতন প্রদানের প্রমাণ জমা দিলেই কেবল বিল অনুমোদন করা হবে।

বোর্ডের দায়িত্বে এসে নিজের অবস্থান নিয়েও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। খেলোয়াড় থাকাকালীন যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, এখন সেগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে বিসিবি সভাপতি হিসেবে শুধু আনন্দ করতে আসিনি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে আমি বাইরে থেকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি যদি এখন সেগুলো সংশোধন না করি, তবে আমার আগের কথাগুলোর কোনো মূল্য থাকবে না।’

তামিম ইকবালের বার্তা স্পষ্ট- ঘরোয়া ক্রিকেটে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তিনি মাঠে নেমেছেন। তামিমের এই উদ্যোগ বাস্তবে পরিবর্তন আনতে পারবে তো।


  বিষয়:   তামিম  জিরো টলারেন্স  ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: