ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ জয়ের পেছনে ছয়জন কেন্দ্রীয় কৌশলবিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান রূপকার। ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা টানা ১৪ দিন পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করে দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি দিনব্যাপী জনসভা ও রোডশোতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাত গভীর পর্যন্ত দলের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেন।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা এবং ‘দুষ্কৃতী ও অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অমিত শাহ ছাড়াও আরও পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতা এ সাফল্যে কৌশলগত ভূমিকা রাখেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নির্বাচনী প্রচারের প্রধান কৌশল নির্ধারক হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সামাজিক স্তরের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সফর পরিকল্পনা পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বুথ পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আইনি দিকগুলোও তিনি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন।
বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসাল ‘পন্না প্রধান’দের মাধ্যমে বুথভিত্তিক একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠিত কাঠামোর মোকাবিলায় দলকে প্রস্তুত করা হয়।
ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিশেষ করে ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল রয়েছে এমন অঞ্চলে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ডিজিটাল প্রচারণার নেতৃত্ব দেন। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে তৃণমূলের প্রচারণার বিরুদ্ধে পাল্টা বর্ণনাও তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই ছয় নেতার সমন্বিত কৌশল, মাঠপর্যায়ের সংগঠন ও ডিজিটাল প্রচারণার সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বিজেপি।