পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপির শাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পনেরো বছরের দাপুটে শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ

2026-05-05T04:59:11+00:00
2026-05-05T04:59:11+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপির শাসন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৪:৫৯ এএম 
নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সংগৃহীত ছবি
পনেরো বছরের দাপুটে শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ্যে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়। একসময় ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানে বাম শাসনের অবসান ঘটানো মমতা ব্যানার্জির দল এবার একই ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। নবান্নে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শাসনের সূচনা হয়েছে।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৮টিতে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৭ আসনের সীমা অতিক্রম করে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৭৯টি আসন। সিপিএম ১টি এবং কংগ্রেস ২টি আসনে জয়ী হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের পরাজয় দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উত্থানও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফল প্রকাশের পর মমতা ব্যানার্জি গণমাধ্যমকে বলেন, বিজেপি ১০০টি আসন লুট করেছে। তবে তিনি সরাসরি গণতান্ত্রিক ফলাফল অস্বীকার করেননি।

অন্যদিকে, দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে বিজয়োৎসব অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই জয় দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রমের ফল। তিনি গণতন্ত্রের জয় এবং সংবিধানের জয় হিসেবে এই ফলাফলকে উল্লেখ করেন।

এদিকে এক এক্স বার্তায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহ বলেছেন, বাংলার মানুষ অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারীদের এমন শিক্ষা দিয়েছে, যা তোষণের রাজনীতি করা দলগুলো কোনোদিন ভুলতে পারবে না। বাংলা যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ওপর এই বিশ্বাস রেখেছে, বিজেপি অবশ্যই তা পূরণ করবে।

এই ফলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ধরা পড়ে কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে। এখানেই ভোটগণনার একাধিক রাউন্ড শেষে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে যে, মমতা নিজের আসনেই পিছিয়ে পড়ছেন। ১৭ রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় তার পরাজয়। এই দৃশ্য শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং গোটা নির্বাচনের প্রতীকী ছবি হিসাবে সামনে আসে। যেখানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সামাজিক ও প্রশাসনিক অসন্তোষের প্রতিফলন। অর্থনৈতিক প্রত্যাশা, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবিই ভোটার আচরণে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করেন।

আরবিএন 


  বিষয়:   ভারতীয় জনতা পার্টি  বিজেপি  তৃণমূল কংগ্রেস 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: