বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
রোববার (৩ মে) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রাজধানীর মতিঝিলে বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, জাইমা রহমানের মতো তরুণ নেতৃত্বের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক ‘স্পোর্টস উইং’ বা ক্রীড়া শাখা চালু করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই কার্যক্রমের তদারকি করছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উল্লেখ করেন, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান যে, জিয়া পরিবার ঐতিহাসিকভাবেই ক্রীড়ানুরাগী এবং এই পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা ক্রীড়াঙ্গনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় ফুটবল দলের জন্য দক্ষ কোচ নিয়োগ এবং মাঠ পর্যায়ের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যদি অভিজ্ঞ কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে, তবে সরকার আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজারে ফিফার টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সরকারের এই তৎপরতা তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার মানোন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি জেলা ও বিভাগে ক্রীড়া উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রীড়া কূটনীতি কেবল খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধি নয়, বরং বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা আনতেও সহায়ক হবে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/টিএইচ