মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই পারস্য উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে মার্কিন বাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানকে কেন্দ্র করে গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও গত চার সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনো টেকসই রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও সারের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দিতে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, ‘আমরা নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আপাতত যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, তবে আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সোমবারের অভিযানে তারা ইরানের ৬টি গানবোট, বেশ কিছু ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করেছে। তাদের পাহারায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই ক্ষয়ক্ষতির খবর ভিত্তিহীন দাবি করে জানিয়েছে, তারা একটি মার্কিন রণতরীকে ধাওয়া করে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। ইরানি কমান্ডারদের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় ৫ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
উত্তেজনার আঁচ লেগেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ফুজাইরাহ লক্ষ্য করে ইরান বড় ধরনের ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমিরাত সরকার একে ‘চরম উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর মধ্যেই ইরান নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে আমিরাতের উপকূলীয় এলাকাকেও তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে।
এদিকে রণক্ষেত্র যখন উত্তপ্ত, তখন পর্দার আড়ালে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে বেইজিং সফরে রয়েছেন। পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই পক্ষই অনেক বিষয়ে একমত হলেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং স্থায়ী শান্তি প্রস্তাব নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ এখনো রয়ে গেছে।
/কহু