নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গত সপ্তাহের লড়াইটা ছিল মহাকাব্যিক, পিএসজি-বায়ার্ন সমর্থকদের জন্য চরম স্নায়ুচাপের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগে দুদলের দ্বৈরথ পেন্ডুলামের মতো এদিক-ওদিক দুলছিল। আক্রমণভাগের দাপটে রক্ষণভাগ ছিল একেবারেই অসহায়। সেই রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে পিএসজির জয়ে। ৫-৪ গোলের ব্যবধানে। প্রথম লেগের ধ্রুপদী লড়াই শেষে এবার ভাগ্য নির্ধারণী দ্বিতীয় লেগের। অপেক্ষায় পুরো ফুটবলবিশ্ব। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় আজ মুখোমুখি বায়ার্ন-পিএসজি।
প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে গত ম্যাচে উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে এবং খিচা কাভারাটস্খেলিয়া- পিএসজির এই বিধ্বংসী আক্রমণভাগ প্রথম এক ঘণ্টা মাঠ একচ্ছত্রভাবে শাসন করেছিল। তবে ৫-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে বায়ার্নের ৫-৪ ব্যবধানে ফিরে আসা ম্যাচটিকে এক অভাবনীয় মোড় এনে দেয়। গ্যালারিতে বসে থাকা বায়ার্নের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকে দেখতে হয়েছে গত ৩১ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথমবার বায়ার্নের ৫ গোল হজমের দৃশ্য।
ইতিহাস অবশ্য বায়ার্নের পক্ষে কথা বলছে না। ইউরোপিয়ান আসরের সেমিফাইনালে এর আগে ১০ বার প্রথম লেগে হেরেছিল বায়ার্ন, যার মধ্যে ৯ বারই তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। অন্যদিকে বুন্দেসলিগায় টেবিলের তলানির দল হাইডেনহেইমের সঙ্গে ৩-৩ ড্র করে বায়ার্ন এখন মৌসুমের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন সময় পার করছে। শেষ ৩ ম্যাচে ২২ গোল এবং শেষ ১১ ম্যাচে ৫৯ গোল হওয়া বায়ার্নের রক্ষণভাগ এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
বিপরীতে লুইস এনরিকের পিএসজি প্রথম লেগের জয় নিয়ে বেশ স্বস্তিতে। যদিও ঘরোয়া লিগে লোরিয়েন্টের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে, তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। শেষ ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে দ্য পারিসিয়ান, যার মধ্যে শেষ পাঁচটি ম্যাচে তারা কোনো গোলই হজম করেনি।
উভয় দলই এখন ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বার্সেলোনার গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ ৪৫ গোলের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে। পিএসজির গোলসংখ্যা এখন ৪৩ এবং বায়ার্নের ৪২। এ ছাড়া কাভারাটস্খেলিয়া আর মাত্র একটি গোল করলেই ইব্রাহিমোভিচকে ছাড়িয়ে পিএসজির হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোলের নতুন রেকর্ড গড়বেন। দ্বিতীয় লেগের আগে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে পিএসজি; ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন আশরাফ হাকিমি। তার জায়গায় রক্ষণে দেখা যেতে পারে জাইর-এমেরিকে।
অন্যদিকে বায়ার্ন শিবিরে ফিরছেন ম্যানুয়েল ন্যয়ার, কিমিচ ও হ্যারি কেইনদের মতো তারকারা। টানা ছয় ম্যাচে গোল করা হ্যারি কেইন এবারও বায়ার্নের প্রধান ভরসা। অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতে যখন এই দুই জায়ান্ট মুখোমুখি হবে, তখন কেবল সেমিফাইনালের জয় নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকবে পুরো বিশ্ব। বুধবারের জয়ী দলের জন্য ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে আছে বুদাপেস্টে।