পাকিস্তানের প্রভাবশালী আলেম ও রাজনীতিবিদ শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিসকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চারসাদ্দা জেলার উসমানখেল থানার আওতাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে চারসাদ্দার উসমানখেল থানাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুটি মোটরসাইকেলে চারজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী এসে শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিসের গাড়িতে নির্বিচারে গুলি চালায়। ঘটনার পরপরই মাওলানা ইদরিস এবং আহত দুই কনস্টেবলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে পথেই ওই আলেম মারা যান এবং আহত কনস্টেবলরা বর্তমানে চারসাদ্দার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পরপরই পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিসকে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস ১৯৬১ সালে চরসাদ্দা জেলার তরঙ্গজাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাকিম মাওলানা আবদুল হক ছিলেন ওই সময়ের একজন সুপরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মুনাজির-ই-ইসলাম’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার দাদা ছিলেন মুফতি শাহজাদা ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দে পড়া একজন বিজ্ঞ আলেম।
শিক্ষাজীবন শেষ করে মাওলানা ইদরিস জামিয়া নোমানিয়াতে শিক্ষকতা শুরু করেন। আমৃত্যু সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চরসাদ্দা জেলার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির ছিলেন।
মাওলানা ইদরিস প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য মাওলানা হাসান জানের জামাতা ছিলেন।
তার শ্বশুর মাওলানা হাসান জান ২০০৭ সালের রমজান মাসে আত্মঘাতী হামলার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করলে রোজা থাকা অবস্থায় পেশোয়ারের ওয়াজির বাগ এলাকায় আততায়ীদের হাতে শহিদ হন।