কাতারের আকাশসীমার কাছে একটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দ্য ইকোনমিক্স টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পারস্য উপসাগরের ওপর উড্ডয়নের সময় বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার বিমানটি ৭৭০০ ডিস্ট্রেস সিগন্যাল পাঠায়। আন্তর্জাতিকভাবে এই সংকেত জরুরি পরিস্থিতির নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বা কোনো হামলার শিকার হয়েছে এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কিংবা পেন্টাগন।
জানা গেছে, বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা এয়ার বেস থেকে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আকাশে কিছু সময় চক্কর দেওয়ার পর এটি নিচে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে রাডার থেকে সংকেত হারিয়ে যায়।
এরপর কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস থেকে দুটি এইচ-১২৫ হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কেসি-১৩৫ বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭৭০০ সংকেত মানেই দুর্ঘটনা নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা কিংবা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জিপিএস জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের কারণেও এ ধরনের সংকেত পাঠানো হতে পারে।
এখন পর্যন্ত কোনো ধ্বংসাবশেষ, উদ্ধার অভিযান কিংবা হামলার দাবি পাওয়া যায়নি। ফলে বিমানটি নিখোঁজ হয়েছে নাকি নিরাপদে অবতরণ করেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।