মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে আপস করার আহ্বান জানানো হলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, ‘কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না’।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিয়া মুসলিম মতাদর্শে বিশ্বাসী কোনো শক্তিকে বলপ্রয়োগ বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করা সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক হুমকি অপসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের এই বিশেষ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অস্ত্র ও রসদ পৌঁছানো বন্ধ করা।
বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় এই বিষয়টিই সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। তেহরান মনে করে, হরমজ প্রণালীতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রধান কারণ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে বর্তমানে এই অভিযানটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান যাতে হরমজ প্রণালীর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তবে ইরান শর্ত দিয়েছে যে মার্কিন সামরিক হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে তেহরান তার ধর্মীয় ও জাতীয় আদর্শের কথা বলে কোনো ধরনের চাপের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন তাদের সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া।
হরমজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটটি নিয়ে এই টানাটানি কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি তেলের বাজার। আপাতত উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে থাকলেও মাঠ পর্যায়ের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি যুদ্ধের শঙ্কাকে জিইয়ে রেখেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/টিএইচ
//