হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন রণতরীগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে ‘কামিকাজে ডলফিন’ বা আত্মঘাতী প্রশিক্ষিত ডলফিন ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জন্য মাইন বহনকারী ডলফিন ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বুধবার (৬ মে) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের এ ধরনের কোনো ডলফিন বাহিনী মোতায়েনের সক্ষমতা নেই বলে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছেন। তবে আমেরিকার নিজস্ব কোনো ‘কামিকাজে ডলফিন’ আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
সামরিক উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েক দশকের পুরনো একটি প্রোগ্রাম রয়েছে যেখানে ডলফিনদের পানির নিচে মাইন শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নেভাল ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার সেন্টার প্যাসিফিকের অধীনে পরিচালিত এই ‘মেরিন ম্যামল প্রোগ্রাম’ মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির কাজ করে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের ডলফিনগুলো আত্মঘাতী নয় বরং সেগুলো মাইন ও ডুবন্ত বস্তু শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান হরমুজ সংকট নিরসনে আমেরিকা কোনো ডলফিন ব্যবহার করছে না।
ডলফিন যুদ্ধের এই আলোচনায় ইরান ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ২০০০ সালে ইরান কিছু ডলফিন ক্রয় করেছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেই ডলফিনগুলো এখন বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মক্ষম থাকার কথা নয় এবং বর্তমানে তেহরানের এ ধরনের কোনো সক্রিয় কর্মসূচি রয়েছে কি না, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
অন্যদিকে রাশিয়া অতীতে তাদের বন্দরগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য ডলফিন ব্যবহারের নজির স্থাপন করেছে। মূলত ডলফিনের প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত অত্যাধুনিক ‘সোনার’ পদ্ধতি পানির নিচের যেকোনো ড্রোন বা যান্ত্রিক প্রযুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর হওয়ায় সামরিক বাহিনীগুলো এই প্রাণীদের প্রতি আগ্রহী হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্যমতে, ১৯৫৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তাদের এই প্রোগ্রামে বটলনোজ ডলফিন এবং ক্যালিফোর্নিয়া সি লায়নদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রাণীদের পানির নিচে দেখার প্রখর ক্ষমতা এবং শ্রবণশক্তি ঘোলাটে পানিতেও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
সামরিক বা বেসামরিক জাহাজের জন্য হুমকি হতে পারে এমন মাইন খুঁজে বের করে তার অবস্থান চিহ্নিত করাই এই প্রশিক্ষিত ডলফিনদের প্রধান কাজ। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ‘ডলফিন যুদ্ধ’ বা প্রাণী ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে হাস্যরস ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
সময়ের আলো/টিএইচ